মূল বিষয়বস্তুতে যান
ব্রেকিং
Tuesday, 3 November 2026
Narsingdi Inside | নরসিংদী ইনসাইড

খবরের গভীরে, নরসিংদীর জন্য

নরসিংদী

মা-বাবার ছেড়ে যাওয়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুটির পাশে জেলা প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক: নরসিংদীতে জন্মদাতা পিতা-মাতার ছেড়ে যাওয়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সাত বছরের শিশু সোহানার পাশে দাড়িয়েছে নরসিংদী জেলা প্রশাসন। আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) জেলা প্রশাসক…

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নরসিংদীতে জন্মদাতা পিতা-মাতার ছেড়ে যাওয়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সাত বছরের শিশু সোহানার পাশে দাড়িয়েছে নরসিংদী জেলা প্রশাসন। আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া নরসিংদী শহরের বানিয়াছল এলাকায় শিশু সোহানাকে দেখতে যান।

জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া জানান, শিশুটির চিকিৎসা ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তাকে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি জন্মনিবন্ধন, প্রতিবন্ধিতার ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা ও পরিচর্যা এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় আনার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া শিশুটির বাবা-মায়ের সন্ধানেও কার্যক্রম চালাচ্ছে প্রশাসন। অভিভাবকদের খুঁজে বের করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রয়োজনে সরকারি শিশু পরিবারে শিশুটির নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, একটি শিশুর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হওয়ার কথা তার পরিবার। কিন্তু সেই আশ্রয়ই যখন হারিয়ে যায়, তখন শিশুটির হাত ধরে দাঁড়ানো আমাদের সবার দায়িত্ব। সাত বছরের শিশু সোহানা জন্ম থেকেই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন। নিজে ঠিকমতো হাঁটতেও পারে না। জীবনের এই কোমল বয়সেই তাকে পার হতে হচ্ছে অবহেলা, অনিশ্চয়তা আর অসহায়ত্বের কঠিন সময়।

অভিযোগ রয়েছে, শিশুটিকে তার বাবা-মা ফেলে চলে গেছেন। যে বয়সে তার বাবা মায়ের কোলে থাকার কথা, সে বয়সে জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে শিশুটিকে। আজও আধো স্বরে বাবা-মাকে ডাকে। কিন্তু সেই ডাকের উত্তর দেওয়ার কেউ নেই তার।

এই কঠিন বাস্তবতার মাঝেও সোহানার জীবনে এক টুকরো মমতার নাম আম্বিয়া বেগম নামের এক বৃদ্ধা। নিজেরই দুবেলা খাবার জোটে না, তবুও ভিক্ষা করে পাওয়া সামান্য অর্থ থেকে সোহানার মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন তিনি। রক্তের সম্পর্ক নেই, নেই সামর্থ্য; আছে শুধু অসীম মমতা। দীর্ঘদিন ধরে শিশু সোহানাকে আগলে রেখেছেন আম্বিয়া খাতুন। নিজে বয়স্ক, অসহায়, ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়া সত্ত্বেও সীমিত সামর্থ্যে তিনি শিশুটিকে লালন-পালন করে আসছেন। আম্বিয়া বেগমের মতো মানুষেরাই প্রমাণ করেন, মানবিকতার জন্য বিত্তবান হওয়ার প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন একটি সংবেদনশীল হৃদয়ের। তাঁর এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও মানবিকতা সত্যিই অনুকরণীয় উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক তাঁর এই অসাধারণ মানবিকতার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

শেয়ার করুন
Narsingdi Inside

নরসিংদী ইনসাইড প্রতিবেদক দল।

মন্তব্য লিখুন